খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত, উদ্বেগে দেশবাসী, অবস্থার উন্নতি নেই সাতদিনেও বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে টানা সাত দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থায় কোনো উন্নতি হয়নি। দেশের কোটি মানুষের দোয়া–প্রার্থনায়ও তাঁর শারীরিক জটিলতা রয়ে গেছে সংকটাপন্ন পর্যায়ে।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। তার আগে তিন বাহিনীর প্রধানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও তাঁকে দেখে এসেছেন। পরিবার–দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, ভিসা, মেডিক্যাল অনুমোদনসহ সব আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ। মেডিক্যাল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তান ও ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বিত টিম। বুধবার যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল ঢাকায় পৌঁছে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেন। বাংলাদেশের মেডিক্যাল বোর্ড ছাড়াও চীনের ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল চিকিৎসায় কাজ করছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক জাহিদ বলেন, “চিকিৎসকদের যৌথ মূল্যায়নে যদি মনে হয়, তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন, তখনই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।”
এভারকেয়ারের পাশে হেলিকপ্টার প্রস্তুতি এসএসএফ–এর নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী বুধবার এভারকেয়ার হাসপাতালের কাছে দুটি মাঠে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের পরীক্ষামূলক অবতরণ–উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, এটি কেবল নিয়মিত নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ; এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম (শায়খ চরমোনাই) এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে আজ খালেদা জিয়াকে এই অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার।”
তিনি আরও বলেন, জাতির ভালোবাসায় খালেদা জিয়া আবারও সুস্থ হয়ে জনগণের মাঝে ফিরবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “স্বৈরাচার সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হিসেবেই ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম থাকবে।”
বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের পাশে থাকতে দেশে ফিরবেন কি না, এ নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল। দলীয় সূত্র বলছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বিবেচনা, পারিবারিক বাস্তবতা এবং মায়ের চিকিৎসা—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর ফেরার সিদ্ধান্ত এখন অনিশ্চিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাঁর পাসপোর্ট ইস্যু করতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগবে না, তবে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে পরিবারের ওপর।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত থাকায় অসংখ্য মানুষ দোয়া–মোনাজাতে যুক্ত হয়েছেন। হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মনেও একটাই প্রশ্ন— অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এবং কবে তাঁকে বিদেশে নেওয়া হবে?
Like this:
Like Loading...
Related