শবে মেরাজের রাতের ফজিলত ও করণীয় আমল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে


ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ রাত শবে মেরাজ। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ সম্মান প্রদান করেন এবং তিনি আসমানি সফর (মেরাজ) সম্পন্ন করেন। এ রাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ধর্মীয় আলোচকরা বলেন, শবে মেরাজ থেকে মুসলমানদের জন্য অন্যতম বড় শিক্ষা হলো—নামাজের গুরুত্ব এবং সৎপথে অবিচল থাকা। তাই এ রাতকে ঘিরে মুসলমানরা নফল ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ-সালাম এবং দোয়া-ইস্তিগফারে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন।


✅ শবে মেরাজের রাতের ফজিলত (গুরুত্ব)

ধর্মীয় দৃষ্টিতে শবে মেরাজের শিক্ষা ও গুরুত্ব—

  • নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করা

  • আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবার সুযোগ

  • আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া

  • পরিবার-সমাজে ভালো কাজ ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা


✅ করণীয় আমল (যা করা উত্তম)

শবে মেরাজের রাতে মুসলমানরা সাধারণত যে আমলগুলো করেন—

১) নফল নামাজ

  • ২ রাকাত, ৪ রাকাত বা সক্ষমতা অনুযায়ী নফল নামাজ আদায়

  • তাহাজ্জুদ/দু’আ ও ইবাদতে রাত কাটানো

২) কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির

  • কোরআন তেলাওয়াত

  • তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, দরুদ শরিফ পাঠ

৩) দোয়া ও ইস্তিগফার

  • নিজের, পরিবার ও দেশ-জাতির জন্য দোয়া

  • বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা

৪) তওবা ও আত্মশুদ্ধি

  • ভুলত্রুটি স্মরণ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া

  • ভবিষ্যতে গুনাহ ছাড়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা

৫) সাদকা ও মানবসেবা

  • সামর্থ্য অনুযায়ী সাদকা প্রদান

  • দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো


✅ বর্জনীয় বিষয় (যা এড়িয়ে চলা ভালো)

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন—

  • অতিরঞ্জিত প্রচারণা/ভিত্তিহীন কথা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা

  • ইবাদতের নামে লোক দেখানো আচরণ না করা

  • রাত জাগার অজুহাতে ফজরের নামাজ যেন কোনোভাবেই কাজা না হয়


শেষ কথা

শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য একটি আত্মশুদ্ধির রাত। এই রাতের মূল শিক্ষা হলো—নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সৎকাজে অগ্রসর হওয়া।

error: Content is protected !!