একসময় খরস্রোতা ও প্রমত্ত হিসেবে পরিচিত পদ্মা নদী এখন রাজবাড়ী অঞ্চলে শীর্ণ খালের রূপ নিচ্ছে। নদীর বুকে অসংখ্য চর জেগে ওঠায় নাব্য মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে এবং চরাঞ্চলে বসবাসকারী শত শত পরিবার তীব্র পানির সংকটে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা নদীতে এমনভাবে চর সৃষ্টি হয়েছে যে অনেক স্থানে নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হেঁটেই নদী পার হওয়া সম্ভব হবে। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল হাকিম মণ্ডল জানান, তিন দশক আগেও শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় এমন নাব্য সংকট দেখা যায়নি। নদীর ওপারে থাকা কৃষিজমি থেকে ফসল আনার জন্য আগে নৌপথই ছিল ভরসা। তবে গত তিন থেকে চার বছর ধরে নদী দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পায়ে হেঁটে বা গরু-মহিষের গাড়িতে ফসল আনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গবাদিপশুর পানির সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পদ্মার ওপারে থাকা শতাধিক কৃষকের গরু ও মহিষকে গোসল করানো ও পানি পান করানোর জন্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূর থেকে নদীতে নিয়ে আসতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পানির স্তর কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর রাজবাড়ী সদর বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এবং নদীর ধারণক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি উজানে অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে পানি প্রবাহ কমে যাওয়াও নদী শুকিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
তিনি আরও জানান, মূল নদীতে পানি কমে গেলে শাখা নদীগুলোও ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নাব্য সংকট দেখা দেয়। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জরিপ প্রতিবেদন হাতে পেলে পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।