শেরপুর জেলা রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় উঠে আসা নারী নেত্রীদের মধ্যে অন্যতম সুমাইয়া আলম। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল শেরপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে ধারাবাহিক সক্রিয়তার কারণে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক পটভূমি
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা সুমাইয়া আলমের পিতা মো. শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জাসাস, যুবদল, কৃষকদলসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে শেরপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই পারিবারিক সম্পৃক্ততা সুমাইয়া আলমের রাজনৈতিক পথচলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হয়।
ছাত্রজীবন থেকে রাজপথে সক্রিয়তা
ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জেলা মহিলা দলের সম্মেলনের মাধ্যমে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান। এরপর কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
২০২৩ সালের একটি মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে পুলিশি টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও কর্মসূচিগুলোতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়।
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর নাম আলোচনায় আসে। যদিও দলীয়ভাবে প্রকাশিত চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এদিকে শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে সুমাইয়া আলমের নাম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন আলোচনা চলমান রয়েছে।
পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত
২০২৫ সালের নভেম্বরে দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে অবস্থান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেরপুর জেলার নারী রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে সুমাইয়া আলম ইতোমধ্যে একটি দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর সম্পৃক্ততার ওপর নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার গতি ও প্রভাব।