সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর অভাব নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের দেওয়া উত্তরে অসন্তুষ্টি জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য অতীত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই মনে হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রয়োজনীয় আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ করা হয়নি। তিনি বলেন, অনুমোদিত ওভারপাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাননি।
মন্ত্রীর আশ্বাসের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওভারপাস ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বহুবার শোনা গেছে, তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে তিনি সংসদে প্রতিবাদও জানান।
জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি পূর্ব থেকেই চলমান থাকলেও নকশা সংশোধন ও বাজেট সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে উত্থাপিত নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কের সংযোগস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টমছম ব্রিজসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন না থাকায় এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই এলাকায় তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।