জ্বালানি সাশ্রয় এবং জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সরকার ভাবছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও সতর্কভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান মজুদ সঠিকভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
এ প্রেক্ষাপটে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা কিংবা সীমিত পরিসরে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর বিষয়েও প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ পর্যায় থেকে সাশ্রয়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং নগর এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমানোর মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি অফিসের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(দেশ এডিশন | জাতীয়)