পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ সরিষার ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ। কোথাও কোথাও সৌন্দর্য উপভোগ করতে দল বেঁধে মানুষ সরিষার খেত দেখতে আসছেন। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির ব্যস্ত বিচরণকে ফলনের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন কৃষিবিদরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আধুনিক চাষপদ্ধতির পরামর্শ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় উন্নত জাতের বীজ ও সার বিতরণের ফলে এবার দেবীগঞ্জে সরিষার আবাদ বেড়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কৃষি বিভাগের মতে, কম খরচে স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে বোরো ধান চাষ শুরুর আগেই সরিষা আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। সরিষা চাষে লাভ ভালো হওয়ায় অনেক কৃষক বোরো মৌসুমের বীজ, সার ও সেচ খরচ আগেভাগেই জোগাড় করতে পারছেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি জমির উর্বরতাও বজায় থাকছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোরশেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে বারি সরিষা, বিনা সরিষা এবং স্থানীয় জাতের টরি সরিষা—এই তিন ধরনের সরিষার আবাদ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কৃষককে উন্নত জাতের বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কৃষি অফিসার জানান, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য কোনো রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ভালো এবং ফুল ঝরার হারও কম। এসব বিবেচনায় এবার দেবীগঞ্জে সরিষার ফলন বাম্পার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে তারা বোরো ধান চাষের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারছেন।
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং কৃষকদের আগ্রহ—এই তিনের সমন্বয়ে দেবীগঞ্জে সরিষা চাষ চলতি মৌসুমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।