সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি পরিবারের

মাজহারুল ইসলাম বাদল, বিশেষ প্রতিনিধি | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৫ ঘন্টা আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মৃত প্রসূতির নাম রাকিবা আক্তার (১৮)। তিনি নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার স্বামী শফিকুল ইসলাম। বাবা মিজান মিয়া ও মা রেহেনা আক্তার।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রসব ব্যথা শুরু হলে রাকিবা আক্তারকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

স্বজনদের দাবি, অপারেশনের কিছু সময় পরই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্টভাবে না জানিয়ে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।

রোগীর মা রেহেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন,
“আমার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি তার কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখন বুঝতে পারি অপারেশনের পরই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।”

অভিযোগ রয়েছে, রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এতে স্বজনরা কাউকে খুঁজে পাননি।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবার মান, তদারকি ও জবাবদিহিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দেশ এডিশন / ডেক্স রিপোর্ট

error: Content is protected !!