মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফাইটার জেট ও সহায়ক বিমান ইতোমধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলের কিং আবদুলআজিজ এয়ারবেসে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মোতায়েন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় করা হয়েছে। এর লক্ষ্য যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি বাড়ানো।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদকে আশ্বস্ত করতেই ইসলামাবাদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সামরিক উপস্থিতি আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে নয়; বরং এটি প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার অংশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা, উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের নিরাপত্তা রক্ষায় সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করে, যা সাম্প্রতিক এই মোতায়েনের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।