মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের পথেও এগোতে পারে আমিরাত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বাধার কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই আমিরাত এই উদ্যোগ নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা
আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা বাধা অপসারণে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাশ করানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের আন্তর্জাতিক অনুমোদন পাওয়া যায়।
একজন আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, ইরান তাদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে এই সংঘাতকে দেখছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করে বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতেও তারা প্রস্তুত থাকতে পারে।
আমিরাতে ইরানের হামলার অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আমিরাতের সরকারি অবস্থান
এ বিষয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি এই তথ্য অস্বীকার করেনি। তবে তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত বাড়লে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
সূত্র: The Wall Street Journal
ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন