হাসিনার সাক্ষাৎকারে মনোবল হারাচ্ছে নি*ষি/দ্ধ দল আ.লীগ নেতাকর্মীরা দলজুড়ে অনিশ্চয়তা।

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দিকনির্দেশনার অভাব ও নরম অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি ‘বেশ মুক্ত অবস্থায়’ আছেন এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। এ মন্তব্য দলের ভেতরে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কলকাতার নিউ টাউনের শাপুরজিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে নেতারা আশা করেছিলেন, শেখ হাসিনা একটি ‘বড় ধরনের হুংকার’ দেবেন এবং ‘প্রত্যাবর্তন আন্দোলন’-এর রূপরেখা ঘোষণা করবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় নেতারা হতাশা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা দেশ এডিশনকে বলেন, “নেত্রীর সাক্ষাৎকারে কোনো শক্ত বার্তা ছিল না। বরং মনে হয়েছে তিনি অপেক্ষা করছেন, যা আমাদের কর্মীদের মনোবল আরও দুর্বল করছে।”

বৈঠকে দলীয় নেতাদের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দেয়। কেউ কেউ মত দেন, শেখ হাসিনা যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে না পারেন, তবে দলীয় দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

ওবায়দুল কাদেরও বৈঠকে দলের বর্তমান অবস্থার ভয়াবহতা তুলে ধরে একপ্রকার হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় বসে আছে। সবাই জানতে চায়—আর কতদিন অপেক্ষা?”

শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি কেবল বৈধ ও সাংবিধানিক সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে সেই সরকারের অধীনে দেশে ফেরা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন।

তবে সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং দলের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা পেলে তিনি নির্বাচনের আগে ঢাকায় ফিরতে পারেন।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ থাকায় আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এতে কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া নেতাদের হতাশা আরও গভীর হয়েছে।

বৈঠকের একপর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে—দল কি নতুন কোনো কৌশলে মনোনিবেশ করবে? কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি ওবায়দুল কাদের।

error: Content is protected !!