মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে পড়তে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্বের প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হিলিয়াম কাতার থেকে সরবরাহ করা হয়, যা মূলত এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) উৎপাদনের সময় সংগ্রহ করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হিলিয়ামের সরবরাহ কমে গেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিলিয়াম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস, যা হাসপাতালের MRI মেশিন সচল রাখা, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, মহাকাশ গবেষণা, ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গ্যাসের কার্যকর বিকল্প না থাকায় সরবরাহ সংকট হলে এর প্রভাব দ্রুত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পড়তে পারে।
এদিকে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী হিলিয়ামের মজুদ সীমিত এবং সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এতে চিকিৎসা পরীক্ষার খরচ বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদনেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশেও হিলিয়াম সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস থাকলেও, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হিলিয়াম আহরণের কোনো ব্যবস্থা বা প্রযুক্তি আমাদের নেই। তাই তরল বা বায়বীয় হিলিয়ামের জন্য বাংলাদেশ ১০০% আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ব্যাঘাত ঘটার কারণে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশে এই গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশের হাসপাতাল ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু না হলে বিশ্ববাজারে হিলিয়াম সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।