হাদিকে হ ত্যা র নির্দেশদাতা বাপ্পি

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোড–এর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর সরাসরি নির্দেশে ওসমান হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ–বিরোধী কার্যক্রম ও কঠোর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই হাদিকে টার্গেট করা হয়েছিল।

ডিবি প্রধান আরও জানান, তদন্ত শেষে ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৫ জন এখনো পলাতক। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিওবার্তা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভিডিওবার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে।”

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

error: Content is protected !!