পবিত্র রমজানে গর্ভবতী নারীদের রোজা রাখা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা ও উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করেই রোজা পালনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় রোজা রাখতে চাইলে প্রথমেই ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অনুমতি নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত বমি, অথবা আগের গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, সেহরিতে লাল চাল, আটার রুটি, ডিম, ডাল, দুধ, বাদাম, ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ পানিশূন্যতা গর্ভাবস্থায় মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। চা, কফি ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইফতার খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সুষম খাবার গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যসম্মত। একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশ্রাম ও সতর্কতার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় গর্ভবতী নারীদের হালকা কাজ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে বা মা ও শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে রোজা ভেঙে দেওয়াও স্বাস্থ্যগতভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, মাথাঘোরা, অজ্ঞান ভাব, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা গাঢ় রং হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে সচেতনতা
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় আয়রন ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত ইফতার বা সেহরির পর এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ নিরাপদ। এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. সাবরিনা সুলতানা মিষ্টি বলেন, দিনের কাজগুলো সম্ভব হলে রাতে সম্পন্ন করলে রোজার সময় দুর্বলতা তুলনামূলক কম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তাই রোজা পালনের ক্ষেত্রে মা ও অনাগত শিশুর সুস্থতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।