চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিপুল অঙ্কের সম্পদ ও তার চেয়েও বেশি ঋণের তথ্য। হলফনামা অনুযায়ী, তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে এর বিপরীতে তার মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা তার সম্পদের তুলনায় প্রায় পৌঁনে চার গুণ।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎসে তার সরাসরি ঋণের পরিমাণ ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো—মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক। এছাড়া ১৫টি প্রতিষ্ঠানের জামিনদার হিসেবে তিনি দায়বদ্ধ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকার ঋণে। পাশাপাশি ৯টি প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টর হিসেবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ ২৮৫ কোটি টাকা। যদিও হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব ঋণের বড় অংশেই তিনি জামিনদার বা ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত।
ঋণের অঙ্ক বেশি হলেও নগদ অর্থের দিক থেকেও তিনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে। তার হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ১১ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকে জমার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম—মাত্র ১ লাখ ২৩ হাজার ৪২ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকার।
হলফনামা অনুযায়ী, তার প্রধান আয়ের উৎস ব্যবসা। এই খাতে তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। শেয়ার ও বন্ড থেকে আয় মাত্র ৫ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৩০ কোটি ৭৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
মামলার হিসাবেও এগিয়ে রয়েছেন এই বিএনপি নেতা। হলফনামায় উল্লেখ অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মোট মামলা রয়েছে ১৩২টি। এর মধ্যে ৮০টি মামলা চলমান এবং ৫২টি মামলা ৫ আগস্টের পর খালাস হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় এনআই অ্যাক্টের মামলা রয়েছে ৬৭টি।
পরিবারের আয়ের তথ্যেও রয়েছে বিস্তারিত বিবরণ। তার স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলা একজন ব্যবসায়ী; তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা। একমাত্র কন্যা মেহেরীন আনহার উজমা ব্যবসায়ী; তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৮ হাজার টাকা। মেয়ের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা, তবে স্থাবর সম্পদ নেই।
হলফনামার দায়ের কলামে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত মামলাগুলোর বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা রয়েছে। এছাড়া রাইজিং স্টিলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার নামে ও সংশ্লিষ্টতায় বিপুল অঙ্কের ঋণের তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে শুধু রাইজিং স্টিলের নামেই ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।
এই হলফনামা প্রকাশের পর চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনী অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।