শেরপুর জেলার এক সাধারণ পরিবারের কন্যা টি. এম. তাসনিম তাপস্বী অদম্য মেধা ও নিরলস অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের কারণ হয়ে উঠেছেন।
দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট, সামাজিক নির্যাতন ও আইনি জটিলতার মতো নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তাসনিমের এই সাফল্য সমাজে এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির চাপে নিজ ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে পরিবারটি শেরপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তাসনিমের পিতা মো. মোশরাফুল ইসলাম একজন অবসরপ্রাপ্ত এনজিও কর্মী। সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি দুই সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেই তাসনিম ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ–৫ অর্জন করেন। এরপর কোনো কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনের সহায়তা ছাড়াই নিজের অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদন দিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।
তাসনিম জানান, কলেজের ক্লাস ছাড়া বাকি সময় তিনি নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যেই কাটিয়েছেন। কঠিন বাস্তবতা তাকে দমাতে পারেনি; বরং আরও দৃঢ় করেছে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে।
বর্তমানে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ অত্যন্ত তীব্র। মেডিকেল শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে তাসনিম তাপস্বী একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তাসনিম তাপস্বীর সাফল্য প্রমাণ করে—অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সততা ও পরিশ্রম থাকলে শত বাধাও জয় করা সম্ভব। তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের জন্য সাহস ও স্বপ্ন দেখার শক্তি জোগাবে।