অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক: কেন অনড় ছিল বিএনপি?

দেশ এডিশন অনলাইন:
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০২৪ সালের আগস্টে নাটকীয় পরিবর্তনের পর প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের রদবদল দেখা যায়। তবে এসব পরিবর্তনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদে বহাল থাকেন—যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

পরিবর্তনের ঝড়ে অটল রাষ্ট্রপতি
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রপতির পদে কোনো রদবদল হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একাধিকবার রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি ওঠে। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ, অবরোধ এমনকি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন এবং পরবর্তীতে নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে শপথও পড়ান।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য: ‘বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল’
এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তার কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল এবং কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষে ছিল না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি ও তাদের জোটের অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও তিনি সমর্থন পেয়েছেন।

কেন অনড় ছিল বিএনপি?
রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবির সময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বলেছিলেন—রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। তাদের যুক্তি ছিল:

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি
সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন
নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের কৌশল নিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, নির্বাচন যত দ্রুত হবে, ততই তারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তাই রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হোক—এটি দলটি চায়নি।

বিতর্কের সূত্রপাত
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কয়েক মাস পর একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে দালিলিক প্রমাণ ছিল না। এই বক্তব্যের পর ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভও হয়। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষাই ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশল
পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল স্পর্শকাতর। রাষ্ট্রপতির অপসারণ হলে নতুন করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হতো, যা নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারত।
বিএনপির অবস্থানকে অনেকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন—যেখানে দলটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনার পথে হাঁটেনি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

error: Content is protected !!