মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে থাকায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে বলেন, যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের মাইন পাতা হয়ে থাকে, তাহলে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত। যদিও তিনি সরাসরি এমন ঘটনার নিশ্চিত তথ্য দেননি, তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রণালির কাছাকাছি সন্দেহভাজন কিছু নৌযানের ওপর তারা অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, ইরাক, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানিকৃত বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, আধুনিক নৌযুদ্ধ শুধু বড় যুদ্ধজাহাজের ওপর নির্ভর করে না; ছোট সাবমেরিন বা দ্রুতগতির নৌযান দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করা সম্ভব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্বালানি কর্মকর্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। সেখানে সম্ভাব্য ঘটনার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও পরে তথ্য যাচাইয়ের পর পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।