আঞ্চলিক বাস্তবতায় ইরান ও আমিরাত সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

দেশ এডিশন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পাল্টা জবাবে একযোগে একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরাইলের পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও বিশেষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত–কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে আমিরাতের আবুধাবিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কেন আমিরাতকে বিশেষভাবে টার্গেট করল?

বিশ্লেষকদের মতে, এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ড–এ স্বাক্ষর করে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আমিরাত ও বাহরাইন। যদিও এর আগেও উপসাগরীয় কয়েকটি রাষ্ট্র নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে ইসরাইলের সঙ্গে নীরব যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।

১৯৯৬ সালে ওমান ও কাতার ইসরাইলি বাণিজ্য কার্যালয় চালু করলেও ২০০০ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে চুক্তির আগের পাঁচ বছরে আমিরাত ও ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরানের প্রভাব এবং সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠক হয়। ২০১৫ সালে আবুধাবিতে ইসরাইল তাদের প্রথম কূটনৈতিক মিশন চালু করে। পরবর্তীতে ইসরাইল ও তুরস্কের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াতেও মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখে আমিরাত।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডের পর দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত বিস্তৃত হয়। আর্থিক খাত, কৃষি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। বর্তমানে তুরস্কের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার আমিরাত।

২০২৩ সালে আমিরাতে প্রায় এক হাজার ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। পাশাপাশি নিরাপত্তা সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়—যৌথ নৌ মহড়া, আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থা উন্নয়ন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় এর অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপকে কখনোই ইতিবাচকভাবে দেখেনি ইরান। তেহরানের দৃষ্টিতে, আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আঞ্চলিকভাবে ইরানকে ঘিরে ফেলার প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের আঘাত রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাই বহন করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সংঘাত নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

error: Content is protected !!