ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে রুমানা আক্তার রুমি (২২) নামে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ও হাতের কবজিতে কাটা দাগ থাকায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী বিল্লাল হোসেন পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে রুমানার বিয়ে হয়। দম্পতি আশুলিয়ার পবনারটেক এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রুমানা স্থানীয় একটি পরচুলা (চুলের টুপি) তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে রুমানার ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘর থেকে রুমানার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী বিল্লাল হোসেন রুমানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং হাতের কবজি কেটে পালিয়ে যান। তারা জানান, রুমানা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত স্বামীর দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলম সোহাগ জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং হাতে কাটা দাগ পাওয়া গেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। পলাতক স্বামী বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।