ঈদের পর শাওয়ালের রোজা: যা জানা জরুরি

দেশ এডিশন ইসলামিক ডেস্ক:
প্রকাশ: ৬ minutes ago

রমজান মাসের ফরজ রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, কেউ যদি রমজানের রোজা পূর্ণ করার পর শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখেন, তাহলে তিনি যেন পুরো বছর রোজা রাখার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করেন।

ইসলামি স্কলাররা ব্যাখ্যা করেন, রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলিয়ে হয় ৩৬ দিন। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সে হিসেবে ৩৬ দিনের সওয়াব ৩৬০ দিনের সমান হয়ে যায়, যা একটি পূর্ণ বছরের প্রতীক।

একটানা ছয় রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে একসাথে রাখতে পারেন, আবার আলাদা আলাদাভাবেও রাখতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রেই সুন্নত আদায় হবে।

অনেকে সহজ করার জন্য সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা—সোম ও বৃহস্পতিবার—এর সাথে মিলিয়ে রাখেন। এভাবে তিন সপ্তাহে ছয়টি রোজা সহজেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

ঈদের পরদিন থেকেই রোজা রাখা যাবে

ইসলামে ঈদুল ফিতর একদিনই পালন করা হয়, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। এর পরের দিনগুলো সাধারণ দিনের মতোই, তাই ওই সময় থেকে কাজা রোজা বা শাওয়ালের নফল রোজা রাখা বৈধ।

রোজার নিয়ত যেভাবে করবেন

নফল রোজার নিয়ত অন্তরের ইচ্ছার মাধ্যমেই হয়ে যায়। আলাদা করে মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে চাইলে কেউ বাংলায় বা নিজের ভাষায় নিয়ত করতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে:
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শাওয়ালের ছয় রোজার একটি রাখার নিয়ত করলাম।”

শাওয়ালের রোজার মূল শিক্ষা

শাওয়ালের ছয় রোজা মূলত মুসলমানদের জন্য একটি ধারাবাহিক ইবাদতের শিক্ষা দেয়। রমজানের পরও যেন মানুষ ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, সেই উৎসাহই এ আমলের মাধ্যমে পাওয়া যায়।

error: Content is protected !!