পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাইবান্ধার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহর এখন উৎসবের আমেজে মুখরিত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। তবে পোশাকের বাজারে কেনাকাটার আনন্দ থাকলেও মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উপজেলার হীরামণি মার্কেট, খাজা টাওয়ার এবং হাইওয়ে সংলগ্ন বিভিন্ন শপিং মলে ক্রেতাদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আধুনিক ডিজাইনের পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকায় তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
বিক্রেতারা জানান, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে পৌর মার্কেটের সামনে ও হাইওয়ের দুই পাশে বসা অস্থায়ী দোকানগুলোতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। তুলনামূলক কম দামে জুতা, গেঞ্জি ও শিশুদের পোশাক বিক্রি হওয়ায় এসব দোকানে বেচাকেনা জমে উঠেছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে মাংসের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ বাজারে—
গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকা
খাসির মাংস প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা
ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা
সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটের কারণে মাংসের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।