চট্টগ্রাম মহানগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) নিয়ে এবার বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে হেভিওয়েটদের দৌড়ঝাঁপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১ সাল থেকে এই আসনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ক্ষমতার সূচক’ হিসেবে বিবেচিত— কারণ প্রতি নির্বাচনে এই আসন থেকে যে দল বিজয়ী হয়, সেই দলই পরে সরকার গঠন করে।
চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে লড়ছেন একাধিক অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন—
সাবেক মেয়র, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন,
তাঁর ছেলে কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন,
বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম,
বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান,
নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর,
নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও এস এম সাইফুল আলম,
এবং প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগের মতো এবার আওয়ামী লীগ নয়, বরং বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতির সমীকরণ বদলে গেছে। এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থীরাও মাঠে নামতে পারেন বলে জানা গেছে।
ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ সালে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এম এ মান্নান বিজয়ী হয়ে মন্ত্রী হন। ২০০১ সালে আবারও বিএনপির নোমান জয়ী হয়ে খাদ্যমন্ত্রী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম বিএসসি, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির জিয়া উদ্দীন আহমেদ বাবলু, এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এই আসন থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
মনোনয়নপ্রত্যাশী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন দেশ এডিশনকে বলেন, “সিটি মেয়র ও মন্ত্রী থাকাকালে পুরো চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করেছি, অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। দল যদি মনে করে আমি যোগ্য, তাহলে নির্বাচনে প্রস্তুত আছি।”
আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী শামসুল আলম বলেন, “বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়াই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবু দল ছাড়িনি। এবার শুধু দলের মূল্যায়নের অপেক্ষায়।”
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “বিগত ১৬ বছরে সাতবার জেলে গেছি, নির্যাতিত হয়েছি। ত্যাগের মূল্যায়ন পেলে এই আসনে দলকে বিজয়ী করতে পারব।”
অন্যদিকে সাঈদ আল নোমান, প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে, বলেন, “মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিষয় নয়, এটা জনগণ ও দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। দল চাইলে অবশ্যই মাঠে থাকব।”
এদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হককে চূড়ান্ত করেছে। তিনি চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত এবং সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প চালাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন— ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতের পাশে থাকুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-৯ আসনে এ বছরের নির্বাচন হতে যাচ্ছে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতীকী লড়াইগুলোর একটি। বিএনপি এবার কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, তা নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি নগর রাজনীতিতে।
সংবাদ সংকলন: দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক