কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার—প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা

প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

আসন্ন গণভোটে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এমন প্রশ্ন উঠার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ব্যাখ্যা দিয়েছে।

প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা বিবেচনায় এ ধরনের সমালোচনার ভিত্তি নেই। ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করা হয়—“সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে।”

সংস্কার ম্যান্ডেটের কথা বলেছে প্রেস উইং

প্রেস উইং জানায়, এই অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে সংস্কারের কাঠামো প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করে যে সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। সে কারণে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ সরকারের উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যার শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।

‘গণভোটে অবস্থান নেওয়া অগণতান্ত্রিক নয়’

প্রেস উইংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের মতামত নেওয়ার একটি গণতান্ত্রিক উপায়। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট থাকলে ভোটাররা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ব্যাখ্যায় গণতান্ত্রিক বৈধতার তিনটি বিষয় তুলে ধরা হয়—
১) ভোটাররা অবস্থান প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন কি না,
২) বিরোধী পক্ষ প্রচারণা চালাতে পারছে কি না,
৩) পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না।
প্রেস উইং দাবি করে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত অক্ষুণ্ন রয়েছে।

আন্তর্জাতিক নজিরের কথা

প্রেস উইং আরও জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিবর্তনসংক্রান্ত গণভোটে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোট (২০১৬), স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট (২০১৪)সহ বিভিন্ন দেশের গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।

‘নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়’—প্রেস উইং

প্রেস উইং উল্লেখ করে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা বা দলীয় সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করছেন না; সরকারের দায়িত্ব অন্তর্বর্তী ও সময়সীমাবদ্ধ।

জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা প্রসঙ্গ

জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে প্রেস উইং জানায়, এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা এবং ভুল তথ্য/বিভ্রান্তি কমানো। তারা মনে করে, ক্রান্তিকালীন সময়ে এটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক সম্পৃক্ততা।

শেষদিকে প্রেস উইং জানায়, এই সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয় বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। তবে গণভোটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের নিশ্চয়তা।

error: Content is protected !!