ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাস থেকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য তালিকায় যুক্ত হবে আরও পাঁচটি নতুন পণ্য। ইতিমধ্যে তালিকায় রয়েছে চা, লবণ, ডিটারজেন্ট ও দুই ধরনের সাবান।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টিসিবি’র উপকারভোগী নির্বাচন ও সক্রিয়করণ বিষয়ক সভায় এ তথ্য জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা অংশ নেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনায় সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকে। এটি বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে সমতা তৈরি করে। নতুন পাঁচটি পণ্য দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি আনবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার টিসিবির কার্যক্রম গতিশীল করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এক কোটি উপকারভোগী সঠিকভাবে নির্বাচন করতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দ্যোগী হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে দরিদ্র মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে না থাকে। এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশ একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”
শেখ বশিরউদ্দীন আশা প্রকাশ করেন যে, প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছানো হবে। তিনি বলেন, “কার্ড প্রদানে দরিদ্র-অসহায়দের সনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ সরকার তাদের সহযোগিতা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনসহ সারাদেশে উপকারভোগী নির্বাচন ও কার্ড সক্রিয়করণে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনার আহ্বান জানান।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “সঠিক উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শনাক্তকরণ একটি প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে গতি কিছুটা কমেছে। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হবে।”
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফতানি মো. আব্দুর রহিম খান এবং টিসিবি চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়শল আজাদ বক্তব্য রাখেন।
টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা ৬০ লাখ ৩৪ হাজার ৩১৬টি। সক্রিয়করণের অপেক্ষায় রয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪টি কার্ড।