পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নে একটি চা কারখানার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ দফাদার মো. সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে। সরকারি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ জন ভাড়াটে লোক নিয়ে তিনি ‘পঞ্চবর্ণ’ নামের একটি চা কারখানার জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পঞ্চবর্ণ চা কারখানার পরিচালক মো. নবীর উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানান, চা কারখানার জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুসলিম উদ্দিন একটি সালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই বৈঠকে তিনজন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দফাদার মো. সেকেন্দার আলী উপস্থিত ছিলেন।
সালিসে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। বৈঠকে চেয়ারম্যান মো. মুসলিম উদ্দিন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে না যাওয়ার জন্য দফাদার সেকেন্দার আলীকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, সালিসি বৈঠক শেষ হওয়ার পরপরই দফাদার সেকেন্দার আলী সরকারি পোশাক পরিহিত অবস্থায় দলবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পঞ্চবর্ণ চা কারখানার জমিতে গিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১০ শতক জমিতে টিনের বেড়া স্থাপন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ঘটনার পর ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ দফাদার মো. সেকেন্দার আলীর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন গ্রাম পুলিশ সরকারি পোশাক পরে এভাবে জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।