নির্বাচনে বিএনপির ভেতরেই বড় চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ এডিশন
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিরোধী শিবিরের অন্যতম বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই ব্যস্ত। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ৭৯টি আসনে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মাঠে থাকা—এর মধ্যে প্রায় ৩০ জন স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়—নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

দলীয় সূত্র বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয়, কেউ কেউ সাবেক এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যান। ফলে তাদের পক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যেই কাজ করছেন। এতে শুধু বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক ভাগ হচ্ছে না, জোট শরিকদের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কিছু আসনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব আছে, সেগুলো মিটিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, বিদ্রোহীদের কারণে নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি; ইতোমধ্যে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় ত্রিমুখী ও বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত

রাজধানীর কয়েকটি আসনে বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থান বিএনপির জন্য বাড়তি মাথাব্যথা তৈরি করেছে।

ঢাকা–৭ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ইসহাক সরকার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা–১৪ আসনে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু), বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি) ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর কারণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা।

ঢাকা–১২ আসনে জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি–এর সাইফুল হককে সমর্থন দিলেও বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন।

ঢাকার বাইরে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি

বিভিন্ন জেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিজস্ব ভোটভিত্তি বিএনপির হিসাব বদলে দিতে পারে:

খাগড়াছড়ি আসনে ধর্মজ্যোতি চাকমা পাহাড়ি আঞ্চলিক সমর্থন নিয়ে শক্ত অবস্থানে।

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে সাবেক এমপি প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিবের প্রার্থিতা স্থানীয় ভোটকে প্রভাবিত করছে।

কুড়িগ্রাম–৪, রাজবাড়ী–২, চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী), সুনামগঞ্জ–৪, বাগেরহাটের একাধিক আসন, টাঙ্গাইল–৩ ও ৫, নাটোর–১—এসব জায়গায় স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা মূল লড়াইয়ে ঢুকে পড়েছেন।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বিএনপি কমিটিই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী দল বা প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারেন।

জোট শরিকরাও চাপে

বিএনপি যেসব আসন জোট শরিকদের ছেড়েছে, সেখানেও বিদ্রোহীরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

পটুয়াখালী–৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর–এর বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী হাসান মামুন মাঠে সক্রিয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আলোচনায়।

নড়াইল–২ সহ আরও কয়েকটি আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে শক্তিশালী বিএনপি বিদ্রোহী রয়েছেন।

রাজনৈতিক বার্তা কী?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের তৃণমূলভিত্তিক নেতাদের হঠাৎ দমন বা বহিষ্কার করলেও তাদের প্রভাব একদিনে কমে না। ফলে দলীয় প্রতীক বনাম ব্যক্তি–প্রভাব—এই দ্বন্দ্বই বহু আসনে ফল নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

বিএনপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও বাস্তবতায় বিদ্রোহীদের উপস্থিতি যে বড় সাংগঠনিক ও নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তিই কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

error: Content is protected !!