দৌলতখানে জামায়াতের নেতাকর্মীর ওপর বিএনপির হামলা

দেশ এডিশন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

ভোলার দৌলতখানে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার আমিরজাং গজনবী স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসার চেয়ার বরাদ্দকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামায়াতের উপজেলা আমির ও সেক্রেটারির জন্য নির্ধারিত আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সকালে তারা সেই আসনে বসলে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আপত্তি তোলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল, ভবানীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

জামায়াতের উপজেলা আমির হাসান তারেক হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে আমরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। আমাদের জন্য নির্ধারিত আসনের নামফলক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং অশোভন স্লোগান দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।”

আহতদের মধ্যে সৈয়দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, আবু তালহা, মো. হাসনাইন, মো. শাহরুপ হোসেন, মো. সরোয়ার আলম, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. তানভী উল্লেখযোগ্য।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু বলেন, “চেয়ার বসা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, পরে তা সমাধান হয়ে গেছে।” উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কাউকে মারধর করিনি। বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।”

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার জানান, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষের কিছু লোক আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

error: Content is protected !!