বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শপথের আগে মন্ত্রিসভা গঠনসংক্রান্ত কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হচ্ছে।
এমপিদের শপথ ও সংসদীয় কার্যক্রম
নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ পাওয়া ২৯৬ জন সংসদ সদস্য আজ শপথ নেবেন। ৩০০ আসনের সংসদে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি আসনের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হয়নি।
এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অপারগ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন সদস্য শপথ নিতে পারেন।
সংসদীয় দল নির্বাচন ও সরকার গঠন
শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ সংসদীয় দলের বৈঠক করবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন। বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ
নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—এমন একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কার্যকর মন্ত্রিসভা গঠনকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যতিক্রমী আয়োজনে শপথ অনুষ্ঠান
এবারের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়েছে, যা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার ইতিহাস
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। প্রায় দুই দশক পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দলটি আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় এবার নেতৃত্বে আসছেন তারেক রহমান।