নির্বাচনের জন্য সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ৩৭ দিন বাকি থাকলেও সরকারের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, “যারা নির্বাচন নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রোফাইল আমাদের কাছে স্পষ্ট। আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ সব নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একযোগে তিনটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইভেন্ট—ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির জানাজা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা—বৃহৎ জনসমাগমের মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “একই সময়ে এত বড় ইভেন্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে হয়নি, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, জাতিসংঘ সাধারণত এই ধরনের নির্বাচনে অবজারভার পাঠায় না। তাই অভ্যন্তরীণভাবে সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চায়।

পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবার অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। অনলাইনের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ভোটার বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের কারণে সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না।

প্রেস সচিব আরও জানান, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১০টি ক্যারাভান মাঠে নামানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ২০টি ক্যারাভান যুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৯৫টি উপজেলাতেই প্রচারণার গাড়ি পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ধর্ম উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সারাদেশের মসজিদের ইমামদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মসজিদ-মক্তব ও অন্যান্য ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানেও গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

error: Content is protected !!