নোয়াখালী কারাগার যেন একরামের রাজপ্রাসাদ , বসানো হয়েছে টাইলস, লাগানো হয়েছে এসি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

নোয়াখালী, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — নোয়াখালী কারাগারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কারাগারে বন্দি থাকা নোয়াখালী-৪ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বিশেষ সুবিধা নিয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কারাগারে টাইলস বসানো, এসি লাগানো এবং বাইরে থেকে খাবার আনা এমন অভিযোগ আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারাগারে একরামের জন্য ভিন্ন রুমে টাইলস বসানো হয়েছে এবং সেখানে এসি লাগানো হয়েছে, যেন তিনি একটি “রাজপ্রাসাদে” বন্দি থাকেন। রাত-দিন তার লোকজন সেখানে সাক্ষাৎ করছেন, আর বাইরে থেকে নিয়মিত খাবার আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কারাগারে থাকলেও বন্দি হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন — যা কারাগার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সাথে আছে আরও অভিযোগ। গত কোরবানি ঈদে কারাগারে থাকা ৭৭০ বন্দি ও কয়েদিকে একরাম ১,০০০ টাকা করে উপহার দিয়েছেন। এছাড়া, ঈদ উপলক্ষে দুটি বিশাল গরু এনে সবাইকে খাওয়ানো হয়েছে। কারারক্ষী ও কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে তার অনুগত্য রয়েছে। এমনকি এক সময় নোয়াখালী জেলার নিয়ন্ত্রণও তিনি করতেন, এবং এখনো কারাগারে বসে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

একবার এই অভিযোগের কারণে একরামকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু বেশিদিন সেখানে থাকা হয়নি, তিনি আবার নোয়াখালী কারাগারে ফিরেছেন।

নোয়াখালী কারাগারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম রুবেল জানিয়েছেন, “টাইলস বসানো হয়েছে গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে, আর এসি লাগানো হয়নি।” তবে তিনি জানান, সঠিক তথ্য জানার জন্য জেল সুপারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জেল সুপার বর্তমানে সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

জেলার রুবেল বলেন, “এসব গুঞ্জন সত্য নয়। আমি নোয়াখালী থেকে কুমিল্লায় বদলি হচ্ছি। এখানে মাত্র দশ মাস ছিলাম, আর কেন বদলি করা হলো তা আমি বুঝতে পারছি না।”

এই অভিযোগ ও বিষয়টি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারাগারে ভিআইপি সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়টি এখন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

  • #দেশএডিশন
  • error: Content is protected !!