পটুয়াখালী সদর থানাধীন কলাতলা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর নাহিদ (২৪) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাহিন (২৩)সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. মাহিন (২৩), ৬ নম্বর ওয়ার্ড, পটুয়াখালী পৌরসভা; মো. নাহিদ (২৩), ৭ নম্বর ওয়ার্ড; মো. তুষার আহমেদ হৃদয় ওরফে ছোটন (২২), ৭ নম্বর ওয়ার্ড; এবং সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩), ৭ নম্বর ওয়ার্ড, পটুয়াখালী পৌরসভা।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে কলাতলা এলাকায় আসামিদের হামলায় নাহিদ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ নাহিদ মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত নাহিদের মা মোসা নাসরিন আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা নম্বর ০৩/০৩ (তারিখ: ১ জানুয়ারি ২০২৬) রুজু করা হয়। ঘটনার পর জেলা পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক তদন্ত দল মাঠে নামে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত নাহিদের ছোট ভাই ফাহিম ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা মাহিনের সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসা হলেও ঘটনার সময় ফাহিম উপস্থিত থাকায় মাহিন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে ফাহিমকে কলাতলা মাছ বাজার এলাকায় ডেকে এনে মারধর করা হয়। এ সময় নাহিদ বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরদিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সামনে ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প দিয়ে নাহিদের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
গ্রেফতারের সময় পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত একটি ক্রিকেট ব্যাট, দুটি স্ট্যাম্প, ঘটনার সময় আসামির পরিহিত একটি লাল রঙের সোয়েটার এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।