বাংলাদেশ পুলিশ পাচ্ছে নতুন রঙের পোশাক। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে আর দেখা যাবে না পুলিশের চিরচেনা গাঢ় নীল পোশাক। তার পরিবর্তে তারা পরবেন ‘আয়রন’ বা লোহার রঙের নতুন পোশাক। কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইজিপি—সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের জন্যই এই পরিবর্তন কার্যকর করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, “প্রথম ধাপে মহানগর, হাইওয়ে, নৌপুলিশ এবং পিবিআইয়ের সদস্যদের মধ্যে এই পোশাক সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিটেই এটি দেওয়া হবে।”
সংস্কারের পথে বাহিনী
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা এবং ৫ আগস্টের পর নিরাপরাধ পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এই প্রেক্ষাপটেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার র্যাব, পুলিশ ও আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সচিবালয়ে নতুন পোশাকের ট্রায়াল রানও সম্পন্ন হয়েছে।
তবে নতুন কাপড়ের রঙ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠলেও শেষে পুলিশের জন্য ‘আয়রন রঙ’ চূড়ান্ত করা হয়।
র্যাবের পোশাক নিয়ে অনিশ্চয়তা
র্যাবের পোশাক বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষে নতুন পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত আগের কালো পোশাকই থাকবে।”
‘শুধু পোশাক নয়, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন’
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পোশাক পরিবর্তন বাহিনীর ভাবমূর্তিতে প্রাথমিক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে মানসিকতার রূপান্তরে।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে নতুন পোশাক কোনো তাৎপর্য বহন করবে না। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ ও মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নই সবচেয়ে জরুরি।”
দেশ এডিশন বিশ্লেষণ:
পোশাক পরিবর্তনের উদ্যোগ বাহিনীর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এটি যেন শুধু রঙে সীমাবদ্ধ না থেকে আস্থা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রতীকে পরিণত হয়—সেই প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।