বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি নতুন নীতিমালা জারি করে। এতে বলা হয়, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নয় এমন কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা থাকতে পারবেন।
নীতিমালাটি বাস্তবায়নের পর শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও, এর বৈষম্যমূলক ধারা নিয়ে আদালতে রিট দায়ের করা হয়। রিটের পর আদালত ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত পরিপত্র স্থগিত করে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। কমিশন স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত এই নীতিমালা নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদালতে রিটের বিষয়টি আমরা আইনি উপায়ে মোকাবিলা করব। ইতিমধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই আপিল করা হবে।”
আপিলে কী বলা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আদালতকে জানাব যে এই নীতিমালা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এরপর আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।”
এর আগে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম এই রিট দায়ের করেন। তিনি জানান, নয়টি শিক্ষা বোর্ড প্রবিধানমালায় সংশোধন এনে এমন শর্ত যোগ করেছে যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছাড়া কেউ হতে পারবেন না। এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য বৈষম্যমূলক। তাই প্রবিধানমালার সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।
আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছে কেন এই দুটি বিধি বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, পাশাপাশি ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রমও স্থগিত করেছে। ফলে আপাতত বেসরকারি স্কুল-কলেজের অ্যাডহক কমিটিগুলো কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “আদালতের নির্দেশনার প্রতি আমরা সম্মান দেখাচ্ছি। তবে বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং প্রয়োজনে রুল স্থগিতের আবেদনও করা হতে পারে।”