ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি টেলিগ্রাম অডিওকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিওটি একটি ‘আওয়ামী লীগ অনলাইন কমিউনিটি’ নামের টেলিগ্রাম চ্যানেলের বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ মন্তব্য করছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বসহকারে যাচাই–বাছাই করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, অডিওতে একটি সংঘবদ্ধ টিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় থেকে ‘অপারেশন’ শুরুর কথা শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনি মাঠে থাকা বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেদের ও কর্মী–সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদের ওপর আগের হামলার প্রসঙ্গ টেনে কয়েকজন প্রার্থী আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে সহিংসতা ব্যবহার করা হতে পারে।
চট্টগ্রাম-২ আসনের এক প্রার্থী বলেন, গণসংযোগের সময় প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ জানান, ভাইরাল হওয়া টেলিগ্রাম অডিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। টহল জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে অভিযান বাড়ানো হয়েছে। প্রার্থীদের গণসংযোগের তথ্য আগেভাগে থানাকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোর কমিটির জরুরি বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা না পড়লে সেগুলো অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে বলেও তিনি জানান।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অস্ত্রপাচারের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সীমান্ত ও পার্বত্য রুটগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা সম্পর্কেও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।