শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শেষ বিদায়ে মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। শনিবার রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় তার জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীরা।
শহীদ হাদির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে আসা তরুণদের মধ্যে ছিলেন হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা। কেউ কেউ আবার শাহবাগে অবস্থান নেন হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে।
জানাজায় অংশ নেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের তরুণ আদিত্য চৌধুরী জানান, তিনি নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। জুলাইয়ের গণআন্দোলনে তিনি উত্তরা এলাকায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তার বাল্যবন্ধু রিদওয়ান শরীফ রিয়াদ জয় ওই আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯ জুলাই শহীদ হন।
আদিত্য বলেন, “আমি হিন্দু হলেও ওসমান হাদি আমার ভাই। ধর্ম কখনো আমাদের আলাদা করতে পারেনি। ওনার শাহাদাতের খবর আমাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মনে হচ্ছে, গুলি শুধু ওনার মাথায় নয়—আমাদের সবার হৃদয়েও আঘাত করেছে।”
তিনি আরও জানান, তার বন্ধু নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী অর্নব ডি ক্রুজও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। আরেক বন্ধু হৃদিতা দাস শাহবাগে অবস্থান করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
আদিত্য বলেন, “প্রতিটি নিশ্বাসে আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার চাইছি—যেন আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারি।”
ভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন—তিনি হয়ে উঠেছেন মানবতা, প্রতিবাদ ও ঐক্যের প্রতীক।