শেরপুর, ৩ জানুয়ারি ২০২৬: শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন। এতে দলটির নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, আসনটি প্রার্থীশূন্য হয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জন্য মাঠ ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পরিত্যাগের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণপত্র না দেওয়ায় ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। তবে তিনি আপিল করতে পারবেন।
ফাহিম চৌধুরী নিজে দাবি করেছেন, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর আবেদন করে ডলার জমা দিয়েছেন। কিন্তু বড়দিন ও নববর্ষের ছুটির কারণে অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস বন্ধ থাকায় প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ) সময়মতো হাতে পাননি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দু-চার দিনের মধ্যে কাগজপত্র এসে পৌঁছাবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। “কোনোভাবেই মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না,” যোগ করেন তিনি।
এ আসনে বিএনপির পাঁচ নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ফাহিম চৌধুরী মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনজন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইলিয়াস খান দলের চিঠি ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার মনোনয়নপত্রও দলীয় অনুমোদন না থাকায় বাতিল হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা ছড়িয়েছে। নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, ফাহিম চৌধুরীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে শিগগির কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। তবে হতাশার সুরে তিনি যোগ করেন, বিকল্প হিসেবে ফাহিমের মায়ের নামে মনোনয়নপত্র জমা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা নেওয়া হয়নি।
জেলা বিএনপি নেতা ভিপি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিপক্ষের অপপ্রচারে নেতাকর্মীদের মন খারাপ। তবে যারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না, তারাই বেশি হতাশ।
স্থানীয় শিক্ষক মোশারফ হোসেনের মতে, বিএনপির প্রার্থিতা বৈধ না হলে জামায়াতের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে পারেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, আইনের ছাত্র হিসেবে তিনি বিষয়টি পড়েছেন। ফাহিম চৌধুরীর আবেদনের সময় বিবেচনায় তার প্রত্যাবর্তন কঠিন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকে মাঠে চান তিনি।
এ আসনে অন্য বৈধ প্রার্থীরা হলেন জামায়াতের গোলাম কিবরিয়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ আল কায়েস। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নও ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে।
আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন যে, সময়মতো প্রমাণপত্র না এলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে