ভোটের মাঠে এখন আর শুধু স্লোগান আর পোস্টারের দাপট নেই। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্বাচনী প্রচারণা রূপ নিয়েছে সুরের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে। গ্রামগঞ্জে মাইক থেকে ভেসে আসছে একের পর এক প্রচারণামূলক গান—ভিন্ন ভিন্ন সুরে, ভিন্ন কথায় ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ মার্কার পক্ষে জনপ্রিয় গানের সুরে তৈরি জিঙ্গেল প্রচার করছে। বাংলাদেশের রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) হাতি মার্কার পক্ষে আলাদা ছন্দ ও বক্তব্যে গান বাজিয়ে জানাচ্ছে তাদের বার্তা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষেও ধর্মীয় আবহ ও বক্তব্যনির্ভর সুরে মাইক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মির্জাপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজার, রাস্তার মোড় ও গ্রামীণ জনপদে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকে এসব গান প্রচার করা হচ্ছে। এক এলাকার প্রচারণা শেষ না হতেই পাশের এলাকা থেকে ভেসে আসছে অন্য দলের সুর। এতে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের সুরের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ।
মাইক প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউবে ভিডিও, লাইভ সম্প্রচার, প্রচারণামূলক গান ও শর্ট ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তরুণ কর্মীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে এসব কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করছেন, যা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে ভোটারদের কাছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গান ও অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সহজে মনে থাকছে। অনেকের মতে, এবার প্রচারণা আগের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জাপুরে সুর ও ডিজিটাল প্রচারণার এই লড়াই নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে এবারের ভোটের মাঠে স্লোগানের পাশাপাশি মাইক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই হয়ে উঠেছে প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার।