চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সারাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিরা কোনো অনুশোচনার প্রকাশ করেননি। বরং তারা সম্প্রতি সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও সেনাবাহিনী সেই ফাঁদে পা দেয়নি।
রোববার (২৬ অক্টোবর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, “সব প্রমাণই অকাট্য। বিশ্বের যে কোনো আদালতে এগুলো বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে গৃহীত হবে। আইন ও সংবিধানের আলোকে এই মামলার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আদালতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “এই বিচার ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা — যেন কোনো শাসক জনগণের বিরুদ্ধে হত্যার সাহস না করে।”
এদিকে মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি, তাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সাবেক আইজিপি দায় এড়াতে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ন্যায়বিচার হলে আসামিরা খালাস পাবেন।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করবে।