জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনগতভাবে তাদের শাপলা প্রতীক পাওয়ার অধিকার রাখে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, যদি শাপলা প্রতীক পেতে এনসিপিকে রাজপথে নামতে হয়, তাহলে দলটি একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যুক্ত হবে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এনসিপির সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, “প্রশাসনে এখনো কেউ বিএনপিপন্থি, কেউ জামায়াতপন্থি আচরণ করছেন। আবার অনেকে অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এখনো সেই আচরণ বহাল রেখেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এবার তারা পার পেয়ে গেলেও আগামী দিনে এভাবে পার পাবেন না। যদি আমাদের বড় কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তখন কেউ আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবেন না।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দলীয় প্রশাসন না হয়ে দেশের প্রশাসন হোন। এখনো হাইকোর্ট থেকে শুরু করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আদালতে এমন দোসর রয়েছেন, যারা সুযোগ পেলেই গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার আসামিদের জামিন দিয়ে দেন—টাকার বিনিময়ে কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতায়। এটি দেশের জন্য বিপজ্জনক।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়—সবাইকে এই বিষয়ে কঠোর হতে হবে। অন্যথায় আগামীর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও নির্বাচন দুটোই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার, বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নে এককভাবে বিএনপি বা জামায়াত নেতৃত্ব দিতে পারবে না। সেখানে এনসিপির ভূমিকা অত্যাবশ্যক।”
তিনি জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক কমিটি এবং ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির, দিদার শাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।