শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থী চার শিক্ষক পদত্যাগ

প্রকাশ: ৩ মাস আগে

দেশ এডিশন (সিলেট) ডেস্ক:

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশন থেকে চারজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তারা রোববার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন— ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ সিদ্দিকী, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমেদ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনযুর-উল-হায়দার। তাঁরা চারজনই সম্প্রতি ঘোষিত শাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাত সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৩ সদস্যের কমিশন ঘোষণা করে। গত ২৭ অক্টোবর উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মো. আবদুল কাদির কমিশনের নাম ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, “উপাচার্য সাত সদস্যের জায়গায় ১৩ সদস্য করার একটি সংশোধনী দিয়েছেন। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে।”

পদত্যাগকারী অধ্যাপক ড. রেজোয়ান আহমেদ বলেন, “আমরা চিঠির মাধ্যমে উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছি। ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছি।” অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনযুর-উল-হায়দারও পদত্যাগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে চারজনের পদত্যাগের বিষয়টি আমি জানি না।”

এদিকে, উপাচার্যের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে, তবে উপাচার্য এখনও তা পর্যালোচনা করেননি।”

উল্লেখ্য, পুনঃপ্রণীত শাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠনের কথা বলা আছে, যেখানে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাকিরা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই বিধান অনুসরণ না করায় কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলছিল।

error: Content is protected !!