পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজের কয়েকদিন পর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা মনি (১২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. রুবেল প্যাদা (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২ জানুয়ারি বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে রাঙ্গাবালীর মাঝনেতা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আয়শা। দীর্ঘ সময়েও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন ৩ জানুয়ারি আয়শার বাবা মো. বাবুল প্যাদা রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ৪ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আয়শার বাবার বসতঘরের রান্নাঘর থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় আয়শার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আয়শার বোন মোসা. সাথী বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা পুলিশের একাধিক তদন্ত টিম মাঠে নামে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ মো. রুবেল প্যাদার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। পরে অভিযান চালিয়ে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাঙ্গাবালী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল পারিবারিক বিরোধের জেরে আয়শাকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করে। হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখে বলে পুলিশকে জানায় সে। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন অভিযুক্ত।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত আয়শা রাঙ্গাবালীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা বিদেশে অবস্থান করায় সে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করত। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত রুবেলের সঙ্গে ভিকটিম পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।