শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা অনিশ্চিত হলে বিকল্প হিসেবে ইলিয়াস খানকে ঘিরে প্রত্যাশা

জান্নাতুল বাকী, শেরপুর
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা দীর্ঘায়িত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিকল্প প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস খানকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন স্থগিত ও বাতিলের প্রেক্ষাপট

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় শেরপুর-২ আসনে মনোনয়ন পান প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তিনি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার বিষয় উল্লেখ করে তার মনোনয়ন স্থগিত ও পরবর্তীতে বাতিল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাহিম চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়েছে—এমন কোনো অফিসিয়াল প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় তার প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

আপিলেও অনিশ্চয়তা

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ইসি সূত্র জানায়, আপিল গ্রহণ করা হয় ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি এবং শুনানি ও নিষ্পত্তি চলছে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের জটিলতায় কয়েকটি আসনে আপিল আবেদন গ্রহণ না হওয়ায় শেরপুর-২ আসনেও ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

ফলে আপাতত তার প্রার্থিতা বাতিল অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিকল্প হিসেবে ইলিয়াস খানকে ঘিরে আলোচনা

এদিকে শেরপুর-২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশাও দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মাঠে জামায়াতে ইসলামীইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা সাংগঠনিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে রয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসেন ইলিয়াস খান। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তার মনোনয়নপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসঙ্গতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রয়োজনীয় ভোটারের স্বাক্ষর তালিকায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

তবে জানা গেছে, ইলিয়াস খান সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ফলে আপিলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহালের সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা

নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, ইলিয়াস খানের প্রার্থিতা বহাল থাকলে তিনিই হতে পারেন বিএনপি-সমর্থিত শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী। আপিলে তার প্রার্থিতা ফিরে এলে দলীয় মাঠপর্যায়ে নতুন গতি আসবে এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

error: Content is protected !!