শেরপুর জেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে একটি আর্মি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে ১০০ কোটি টাকার বেশি বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি শেরপুরে পরিদর্শনে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল জানায়, উন্নয়ন সূচকে শেরপুর জেলা এখনো দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর জন্মস্থান শেরপুরে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার ভীমগঞ্জ বাজার ও সোলারচর গ্রামের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা জানান, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য দ্রুত স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জমির বাজারমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি চালু হলে স্থানীয় জনগণ বহুমুখীভাবে উপকৃত হবেন। সেনাসদস্য ও শিক্ষকদের আবাসনের কারণে বাসাভাড়া বৃদ্ধি, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আশপাশের বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে এলাকার অর্থনীতি ও অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
এই মহৎ উদ্যোগের জন্য শেরপুরবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শেরপুর জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সার্বিক উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।