আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ উত্তপ্ত। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দল, জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৩৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে।
গত কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও অনাস্থার প্রেক্ষাপটে এবার তুলনামূলক উন্মুক্ত পরিবেশে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছেন প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পর প্রথমদিকে প্রচারে গতি কম থাকলেও ভোটের দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রচারণা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান খুলনায় এক জনসভায় জেলার ছয় আসনে জোট প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরেও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
খুলনার একাধিক আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার থাকায় তাদের সমর্থন এবার বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন দল প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রচারণা কৌশলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। নিরাপত্তা ও সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জনে তৎপরতা চলছে।
এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। অতীতে পরাজয়ের অভিজ্ঞতা থাকা বিএনপি প্রার্থী এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জয়ের আশা করছেন। জামায়াতের প্রার্থী নতুন হলেও প্রচারে সক্রিয় উপস্থিতি দেখাচ্ছেন। মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখের বেশি।
মহানগরভিত্তিক এই আসন ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরিচিত মুখ মাঠে সক্রিয় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীও সংগঠিত প্রচার ও অনলাইন কার্যক্রমে দৃশ্যমান। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।
শিল্পাঞ্চলঘেঁষা এ আসনে শ্রমজীবী ভোট বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা। বিএনপি প্রার্থী অতীতে পরাজিত হলেও এলাকায় ধারাবাহিক সক্রিয়তায় অবস্থান শক্ত করেছেন। জামায়াত প্রার্থীও দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। ভোটার প্রায় আড়াই লাখের কাছাকাছি।
এখানে অভিজ্ঞ বিএনপি নেতার সঙ্গে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর লড়াই প্রত্যাশিত। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করেছেন। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের কারণে এই আসন বিশেষভাবে আলোচিত। জামায়াতের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতার প্রার্থিতা এবং বিএনপির সাবেক এমপি প্রার্থীর অংশগ্রহণে লড়াই জমজমাট। সংখ্যালঘু ভোট এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটার প্রায় ৪ লাখ।
উপকূলীয় এই আসনে সংগঠনভিত্তিক শক্ত অবস্থানকে মূল ফ্যাক্টর ধরা হচ্ছে। জামায়াত প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। বিএনপি প্রার্থী শুরুতে চ্যালেঞ্জে থাকলেও ধীরে ধীরে প্রচার বাড়িয়েছেন। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার।
খুলনার ছয় আসনেই ভোটের লড়াই এখন স্পষ্টভাবে দ্বিমুখী রূপ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সরাসরি অনুপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে এসেছে বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে। শেষ মুহূর্তের প্রচার, ভোটার উপস্থিতি এবং সংখ্যালঘু ভোটের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়ই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।