সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক অকার্যকর ঘোষণা

দেশ এডিশন অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ

বাংলাদেশে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। তারল্য সংকট, শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকটে জর্জরিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একীভূত প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অকার্যকর ঘোষিত ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, ৫ নভেম্বর থেকে তাদের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং ব্যাংকগুলো এখন থেকে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এর আওতায় পরিচালিত হবে।

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত হওয়ায় নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব হারাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম এখন প্রশাসকদের হাতে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে।

জানা গেছে, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যৌথ সুপারিশে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মোট মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দেবে, আর আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনের অংশ হিসেবে শেয়ার আকারে যুক্ত করা হবে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, অতিরিক্ত শ্রেণিকৃত ঋণ, তারল্য ঘাটতি ও মূলধন ঘাটতি— এসব কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল।

নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ ইসলামি ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।

error: Content is protected !!