শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি জনপদ বারোমারীতে অবস্থিত ফাতেমা রাণী তীর্থস্থানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জপমালা প্রার্থনা ও আলোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যায় আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো তীর্থস্থান ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তরফদার মাহমুদুর রহমান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ মিজানুর রহমান ভূঁঞা, নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান এ সময় তীর্থস্থানে আগত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং বলেন,
“বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির যে সুন্দর ঐতিহ্য রয়েছে, বারোমারীর এই আয়োজন সেটির উজ্জ্বল উদাহরণ।”
পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান,
“ধর্মীয় উৎসবে আগত ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করেছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন।”
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বারোমারী ফাতেমা রাণী মা মারীয়ার তীর্থস্থান বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টান তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। শেরপুর শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন এই পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হাজারো ভক্ত, তীর্থযাত্রী ও পর্যটক সমবেত হন ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে।
এ বছরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও প্রতিবেশী ভারতসহ বিদেশ থেকে বহু ভক্ত উপস্থিত হন। জপমালা প্রার্থনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ ধর্মসভা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, আলোক শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনা।
ধর্মীয় ভক্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় ধর্মযাজকগণ বলেন,
“বারোমারীর এই তীর্থস্থান শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নয়, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক।”