সূর্যমুখির সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটক, সাজেকে বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি):
প্রকাশ: ৪৬ minutes ago

পাহাড়ঘেরা সাজেক ভ্যালি এলাকায় চলতি মৌসুমে সূর্যমুখি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে হলুদ রঙের সূর্যমুখির সমারোহ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন ফুলের বাগান ঘুরে দেখতে ও ছবি তুলতে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখির আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণের ফলে ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। কৃষকদের দাবি, প্রতি একরে গড়ে ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

সাজেক ইউনিয়নর বাঘাইহাট এলাকার বাইবাছড়া গ্রামের সূর্যমুখি চাষি দিনেশ চাকমা বলেন,
“ধানের তুলনায় সূর্যমুখিতে খরচ কম, লাভ বেশি। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”

সূর্যমুখি ফুল ফোটার মৌসুমে বাগানগুলো এখন ছোটখাটো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ও হচ্ছে—প্রবেশ ফি ও স্থানীয় পণ্য বিক্রির মাধ্যমে।

সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা জানান, সূর্যমুখি থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকারিভাবে বীজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হন।

বাঘাইহাট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি দয়াধন চাকমা মনে করেন, সূর্যমুখি চাষ সাজেকের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। পাশাপাশি এটি কৃষিভিত্তিক পর্যটনের একটি নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে।

দেশ এডিশন মনে করছে, পরিকল্পিত সহায়তা ও বাজারজাতকরণ সুবিধা বাড়ানো গেলে সাজেকের সূর্যমুখি চাষ স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পর্যটনের বিকল্প আকর্ষণ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

error: Content is protected !!