স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

দেশ এডিশন অনলাইন
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দিনটিকে কেন্দ্র করে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্য কার্যক্রম আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবসের আবেগ ও জাতীয় অনুভূতিকে সামনে রেখে দলটি মাঠপর্যায়ে সীমিত উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের উদ্যোগ আইন ভঙ্গের শামিল হবে।
মাঠপর্যায়ে নড়াচড়া ও নজরদারি জোরদার
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পরিত্যক্ত বা সিলগালা করা দলীয় কার্যালয়গুলোতে প্রতীকী উপস্থিতির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে ঝটিকা মিছিল, ব্যানার প্রদর্শন কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য কার্যালয় খোলার চেষ্টার তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।
অনলাইন প্রচারণা ও অপপ্রচারের অভিযোগ
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির ঘনিষ্ঠ কিছু প্ল্যাটফর্ম থেকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেগঘন ভিডিও, গান ও প্রতীকী দৃশ্য ব্যবহার করে সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।
বিদেশ থেকে নির্দেশনা ও কৌশল
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত বিদেশে অবস্থানরত নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা–এর ঘনিষ্ঠ মহল অনলাইন মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিছু নেতাকর্মীর দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিও কৌশলগতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, নিষিদ্ধ কোনো দলের রাজনৈতিক তৎপরতা রাষ্ট্রের আইন ও গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বার্তা
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের প্রকাশ্য কর্মসূচি বরদাশত করা হবে না। স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত কী?
সরকারি পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর পুনরায় সক্রিয় হতে হলে আদালতের রায় বা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অপরিহার্য। স্বাধীনতা দিবসের মতো আবেগঘন দিনে আইনবহির্ভূত তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

error: Content is protected !!