হরমুজ ছেড়ে আসা ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে আসা ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ ঘোষণার আগেই জাহাজগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় দেশে জ্বালানি তেল, এলএনজি এবং শিল্প কাঁচামালের একটি বড় চালান নিশ্চিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এসব জাহাজে মোট প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আমদানিকৃত এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চারটি জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টি জাহাজে সিমেন্টশিল্পের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার।
বিপজ্জনক নৌপথ পাড়ি দিয়ে কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসমিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘আল গালারেল’ ও ‘লুসাইল’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ আগামী সোম ও বুধবারের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চারটি জাহাজের আগমন নিশ্চিত হলেও ‘লিবারেল’ নামে আরও একটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা রয়েছে, যা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির পাশাপাশি ওমানের সোহার বন্দর থেকে ‘সেভান’ ও ‘জি ওয়াইএমএস’ নামের দুটি জাহাজে করে প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি দেশে আসছে, যা মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার টন মনোহাইড্রিল গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়ামস’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার বন্দরে ভিড়েছে।
শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন ক্লিংকার, জিপসাম ও চুনাপাথর নিয়ে আসা জাহাজগুলোও বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ প্রতি বছর এই রুট ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ সাতটি দেশ থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে, যার সিংহভাগই জ্বালানি।
বর্তমানে সামরিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে নতুন করে জাহাজ চলাচল ও পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

error: Content is protected !!